দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এক বছরে আনুমানিক সম্পদ কমেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। এরপরও ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার জায়গা ধরে রেখেছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এর হিসাবে, শাহরুখ ও তার পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি।
গত বছরের তালিকায় শাহরুখ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। এক বছরের ব্যবধানে নতুন হিসাবে সেই অঙ্ক কমেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ২০ শতাংশ। তবে সম্পদের এই কমতির মধ্যেও অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন শাহরুখ।
শাহরুখের সম্পদের হিসাব শুধু অভিনয় থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভর করে না। তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট। স্ত্রী গৌরী খানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শাহরুখ। চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি।
ক্রীড়া ব্যবসাতেও শাহরুখের উপস্থিতি রয়েছে। নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর অধীনে কলকাতা নাইট রাইডার্সসহ বিভিন্ন ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েছে। ফলে অভিনয়ের বাইরে বিনোদন ও ক্রীড়া ব্যবসাও তার সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তবে হুরুনের প্রকাশিত সম্পদের অঙ্ককে নিশ্চিত নগদ অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ, সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করে এই হিসাব করা হয়। ফলে বছরভেদে বা তালিকাভেদে একই ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্টেও শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি ধরা হয়েছিল।
২০২৬ সালের তালিকায় ধনী অভিনেতাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি রুপি। ২০২৫ সালের তালিকায় অমিতাভ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রকাশিত হিসাবের অঙ্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।
অমিতাভের সম্পদের উৎস শুধু দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আয় নয়। বিভিন্ন বিনিয়োগ, স্থাবর সম্পত্তি এবং পরিবারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার আওতাধীন সম্পদও এর সঙ্গে যুক্ত।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন সালমান খান। ২০২৬ সালের হিসাবে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি রুপি। ২০২৫ সালের তালিকায় তিনি ছিলেন না। ফলে এবার তার অন্তর্ভুক্তিও তালিকার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন হৃতিক রোশন। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি। গত বছর তার সম্পদের হিসাব ছিল ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। অভিনয়ের পাশাপাশি ফিটনেস ও জীবনযাপনভিত্তিক ব্র্যান্ড এইচআরএক্স হৃতিকের ব্যবসায়িক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০২৫ সালের তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে আরও একটি পরিবর্তন দেখা যায়। গত বছর বলিউডের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় শাহরুখের পরেই ছিলেন জুহি চাওলা ও তার পরিবার। তাদের সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৭৯০ কোটি রুপি। কিন্তু ২০২৬ সালের অভিনেতাদের তালিকায় জুহি চাওলার নাম নেই।
এমএম/
একইভাবে গত বছরের তালিকায় ১ হাজার ৮৮০ কোটি রুপি সম্পদ নিয়ে ছিলেন পরিচালক ও প্রযোজক করণ জোহর। এবার তিনিও তালিকায় নেই।
জুহি চাওলার সম্পদের সঙ্গে নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের ব্যবসায়িক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে করণ জোহরের সম্পদের অন্যতম ভিত্তি ধর্মা প্রোডাকশনস। ফলে ২০২৬ সালের তালিকায় তাদের অনুপস্থিতি গত বছরের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি করেছে।
হুরুনের তালিকায় বলিউড তারকাদের সম্পদের উৎসেও পরিবর্তনের চিত্র দেখা যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি, ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগের মাধ্যমে তারকারা নিজেদের ব্যবসায়িক পরিধি বাড়াচ্ছেন।
এ তালিকায় চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন ধনী ব্যক্তির নাম রয়েছে। ‘রামায়ণ’-এর প্রযোজক নমিত মালহোত্রার বাবা নরেশ মালহোত্রার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি রুপি। এ ছাড়া টি-সিরিজের ভূষণ কুমার, রনি স্ক্রুওয়ালা ও সান পিকচার্সের কালানিথি মারানের মতো প্রযোজকেরাও তালিকায় রয়েছেন।
এদিকে বড় পর্দায় ফিরছেন শাহরুখ খান। তার পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’ পরিচালনা করেছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। এতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তার মেয়ে সুহানা খান। আরও রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানী মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন, রাঘব জুয়াল, জয়দীপ আহলাওয়াত, আরশাদ ওয়ার্সি ও জ্যাকি শ্রফ। সিনেমাটি ২৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।